মানসিক অসুস্থতা নিয়ে কথা বলতে অস্বীকার করা সাহস নয়। এটা সংস্কৃতির আড়ালে একটি ধীর, শালীন সহিংসতা — যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলছে।
ভারত একটি অদ্ভুত নীরবতার পূজা করে। আমরা সেই বাবাকে প্রশংসা করি যিনি কখনো তাঁর বিষণ্নতা নিয়ে কথা বলেন না, যেন নীরবতাই ওষুধ। আমরা সেই মাকে "শক্তিশালী" বলি যিনি তিন ঘণ্টার ঘুমে সংসার চালান। আমরা পরীক্ষার পর ভেঙে পড়া ছাত্রটিকে "পরিশ্রমী" বলি — যতক্ষণ না ভাঙা স্থায়ী হয়ে যায়।
নীরবতাকে শক্তি বললে কিছুই সারে না। এতে শুধু অসুস্থ মানুষটিকে চুপ থাকতে শেখানো হয়, আর চুপ থাকা অসুস্থ মানুষ বাইরে থেকে সুস্থ মানুষের মতো দেখায়। এটা সেই একই চাল যা দেশ একশো বছর ধরে নিজের সাথে খেলে যাচ্ছে।
অধিকাংশ বাঙালি পরিবার মানসিক অসুস্থতাকে সেভাবেই দেখে, যেভাবে একসময় যক্ষ্মাকে দেখা হতো। লজ্জাজনক। লুকোনোর বিষয়। "তাদের" হয়, আমাদের নয় — বিশেষ করে JEE-র প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন ছেলের ক্ষেত্রে নয়, কিংবা পরের বছর বিয়ে হবে এমন মেয়ের ক্ষেত্রে নয়। সল্টলেকের ফ্ল্যাটে থাকা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের ক্ষেত্রে নয়, শ্যামবাজারের ছোট ব্যবসায়ীর ছেলের ক্ষেত্রেও নয়।
একজন মানুষের বেদনা লজ্জার বিষয় — এটা শেখানোর প্রথম জায়গা পরিবার, এবং সাহায্যের জন্য দৌড়ে যাওয়ার শেষ জায়গাও সেটাই।[1] NIMHANS-এর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেখা গেছে ভারতে নির্ণয়যোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ৮০%-এর বেশি মানুষ কোনো চিকিৎসা পান না। চিকিৎসা নেই বলে নয় — পরিবারগুলো দেখতে চায় না বলে।
নীরব বাঙালি শান্তিতে নেই। নীরব বাঙালিকে অসুস্থ বলে চিৎকার করে বলার অনুমতিই দেওয়া হয়নি।
এই প্রবন্ধ থেকে
যখন একটি বাঙালি পরিবার শেষমেশ স্বীকার করে যে কিছু একটা ভুল আছে, তখনও অনেক সময় যাওয়ার জায়গা থাকে না। ভারতে প্রতি ১,০০,০০০ মানুষের জন্য মাত্র ০.৭৫ জন মনোচিকিৎসক আছেন।[2] বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম সুপারিশ তিন। সর্বোচ্চ আত্মহত্যার হারযুক্ত রাজ্যগুলিতে — সিকিম, তামিলনাডু, ছত্তিশগড় — বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে কম। পশ্চিমবঙ্গে অবস্থা খানিকটা ভালো — কলকাতায় ১০০-র বেশি মনোচিকিৎসক প্র্যাকটিস করেন, কিন্তু জেলায় জেলায় একজন, কখনো কখনো একজনও নেই। মুর্শিদাবাদের কোনো জেলা হাসপাতালে সাপ্তাহে মাত্র একদিন মানসিক স্বাস্থ্য OPD চলে।
ভূগোলই প্রথম রোগ নির্ণয়। সাহায্য যদি অন্য শহরে থাকে, তাহলে সেই সাহায্যের অস্তিত্ব নেই। দ্বিতীয় রোগ নির্ণয় অর্থের। টিয়ার-১ শহরে একটি বেসরকারি মনোচিকিৎসকের পরামর্শ ₹১,৫০০ থেকে ₹৪,০০০। সম্পূর্ণ জ্ঞানীয় আচরণ থেরাপির (CBT) একটি কোর্স অনেক পরিবারের এক মাসের আয়ের চেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড মানসিক স্বাস্থ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে বলে দাবি করে — মাঠে তা কার্যকর হয় কদাচিৎ।
ভারতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর প্রথম কারণ আত্মহত্যা।[3] এই একটি পরিসংখ্যান দেশের তরুণদের সম্পর্কে ভাবনার ধরনই বদলে দেওয়া উচিত। সড়ক দুর্ঘটনা নয়। ক্যান্সার নয়। ঘরে, একা, সেই নীরবতা।
২০২২ সালে আড়াই লক্ষ ভারতীয় আত্মহত্যা করেছেন। তাঁদের মধ্যে এক লক্ষের বেশি ছাত্র। যে বয়সে ফোন সবচেয়ে বেশি, চিকিৎসার অ্যাক্সেস সবচেয়ে কম, এবং তাঁদের পুরো জীবন নির্ধারণকারী একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার চাপ সবচেয়ে বেশি।
আমরা যেসব ছাত্রদের হারাচ্ছি তারা দুর্বল নন। তারা সেই সবাই যারা দীর্ঘতম সময় ধরে একা ভার বহন করেছে — আর কোনো বড় মানুষ এসে জিজ্ঞেস করেনি সেই ভার কতটা ভারী।
আমরা দেশের সেরা ছাত্রদের হারাচ্ছি। কোনো ভাইরাসে নয়। কোনো যুদ্ধে নয়। একটি ফলাফলপত্রের একটি সংখ্যায় — যা তাদের জীবনকে কখনোই ঠিক করার কথা ছিল না।
এই প্রবন্ধ থেকে
ভারত একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার দেশ নয়। এটি সংস্কৃতি সমস্যার আড়ালে একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যার দেশ। এই সংখ্যাগুলো মতামত নয় — এগুলো NCRB-র মৃতদেহের গণনা।
মানসিক অসুস্থতাকে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো একটি চিকিৎসা অবস্থা হিসেবে দেখা — এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে সস্তা, দ্রুত এবং স্পষ্ট হস্তক্ষেপ। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করছি না। কর্মী তৈরির খরচ বাস্তব। না-তৈরির মূল্য বছরে ২,৫০,০০০ মৃত ভারতীয় — এবং আগামী দশক আরও খারাপ হবে।
হয় আমরা একশো বছর ধরে মুলতবি রাখা সেই আলোচনা এখনই করি — অথবা সংবাদপত্রে নাম পড়তেই থাকি। একটিকে বেছে নিতে হবে।
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রশ্ন